বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিচার না হলে এ সরকারের পরিণতি হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে: মুহাম্মদ শাহজাহান ইয়েমেনে পেট্রোল পাম্পে সৌদির বিমান হামলায় ১২ জন নিহত ভোটার স্থানান্তরের আবেদনের সময় বাড়ল ১ নভেম্বর পর্যন্ত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সাক্ষাৎ দুই দিন বৃষ্টি হতে পারে ৮ বিভাগে, কমবে দিনের তাপমাত্রা এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়িয়ে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির দাবি ক্যাবের দুই শয়তানের যে কম শয়তান তাকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী কাবা শরীফে পৃথক জামাতের প্রচলন বন্ধ করে এক ইমামের পেছনে নামাজের ১০০ বছর হঠাৎ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব অংশীজনকে নিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করতে রুল

মাতৃভূমি সংবাদ 

নিজেস্ব প্রতিবেদক

আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা তৈরি ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে সুপারিশের জন্য ১৮ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্স গঠন প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। রুলে সব অংশীজনকে টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দিয়েছেন।শুক্রবার সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ইউনানি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ কে মাহবুবুর রহমান রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এ কে এম জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, টাস্কফোর্সে সব সময় সব প্রতিনিধি থাকেন। অ্যালোপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল বিশেষজ্ঞসহ সব প্রতিনিধি থাকবেন। তবে এবার শুধু অ্যালোপ্যাথিক প্রতিনিধি রাখা হয়, অন্যান্য শাখার প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা চ্যালেঞ্জ করেই রিটটি করা হয়।রিট আবেদন সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা অনুমোদনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা’ প্রণয়ন সময়োপযোগী, তবে ওই তালিকা সব অংশীজনের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স পুনঃ পর্যালোচনা করবে। অপর সিদ্ধান্তে বলা হয়, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সহজলভ্যতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সব অংশীজন সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করবে। টাস্কফোর্স অত্যাবশ্যকীয় ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের তালিকা প্রণয়ন এবং ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ-সংক্রান্ত মতামত বা সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করবে।পরবর্তী সময়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকা প্রণয়ন ও প্রাপ্যতা নিশ্চিতে করণীয় বিষয়ে সুপারিশের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুল আলমকে সভাপতি ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (ঔষধ প্রশাসন অনুবিভাগ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে সদস্যসচিব করে ১৮ সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। গত বছরের ২৪ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঔষধ প্রশাসন-১ শাখা।২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারায় জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন এবং এই পরিষদ কী কী বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে, তা উল্লেখ রয়েছে। ১৩ ধারার বিধান অনুসারে সরকার একজন চেয়ারম্যান এবং সময়ে সময়ে যেমন উপযুক্ত বিবেচনা করবে, সেই সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে একটি জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবে। এই পরিষদ সরকার প্রণীত জাতীয় ওষুধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ওষুধশিল্পের উন্নয়ন এবং দেশের চাহিদা পূরণে ওষুধের উৎপাদন ও সরবরাহ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবে।ধারাটিতে দেশীয় ওষুধশিল্পের উন্নয়ন এবং দেশের চাহিদা পূরণে ওষুধের উৎপাদন ও আয়ুর্বেদিক, সরবরাহের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল, ভেটেরিনারি ওষুধের মধ্য থেকে কিছু ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ’ হিসেবে ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা হালনাগাদ করার কথা বলা হয়েছে।রিটে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্স গঠনে ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারা লংঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা ও আইন মেনে সব অংশীজনকে টাস্কফোর্স রাখতে নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় রিটে।রুলে ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনার লঙ্ঘন করে আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক, হারবাল, ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্স গঠন-সংক্রান্ত গত বছরের ২৪ জুলাইয়ের মেমো (প্রজ্ঞাপন) কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারার পাশাপাশি ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা অনুসারে সব অংশীজনের টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্তিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।আইনের ১৩ ধারার পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের ওই নির্দেশনা অনুসারে সব অংশীজনকে টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Categories

© All rights reserved © 2023 MatrivumiSongbad
Design & Developed BY N Host BD